মোঃ এমদাদুল হক স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় বিষাক্ত মদ পানে ৮জনের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে হোমিও ওষুধ প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, রেকটিফাইড স্পিরিটের সঙ্গে মিথানল মেশানোর কারণেই তা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। যা পান করে এ পর্যন্ত মোট ৮জনের মৃত্যু হয়েছে।যে ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হলেনঃ শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরিজের স্বত্বাধিকারী নুরুন্নবী ওরফে নুরনবী (৫৮), শহরের গালাপট্টি এলাকার মুন হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক (৫৫), করতোয়া হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী শহিদুল আলম সবুর (৫৫) ও হাসান হোমিও হলের কর্মচারী আবু জুয়েল। বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে বিষাক্ত মদ উৎপাদন এবং বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।গত রোববার রাতে শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় একটি বিয়ের বাড়িতে মদ পানের পর বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং আরেকজন পরদিন ভোরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে মারা যান। অন্যদিকে ওই রোববার রাতেই শহরের কালিতলা এলাকায় এবং ভবের বাজার এলাকায মদ পান করে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপর বিষাক্ত মদ পানে বগুড়ার কাহালু এবং শাজাহানপুরে আরও ৪জনসহ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মোট ১৩জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের পক্ষ থেকে যে ৮জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে তারা হলো- বগুড়া শহরের পুরান বগুড়া দক্ষিণপাড়ার রামপতির ছেলে রামনাথ (৬০) ও তার ভাই প্রেমনাথ রবিদাস (৭০)। প্রেমাথের ছেলে সুমন রবিদাস (৩৮), কাটনারপাড়া এলাকার মৃত কাশেম প্রামাণিকের ছেলে সাজু প্রামাণিক ( ৪৯), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার জলিল মন্ডলের ছেলে পলাশ মণ্ডল (৩৫), ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল (৬৫), পুরান বগুড়া জিলাদার পাড়ার মৃত রোস্তম আলীর ছেলে রমজান আলী ও ফাঁপোর পশ্চিমপাড়ার মৃত মালেকের ছেলে জুলফিকার আলী (৫৫)।
ওই ঘটনায় বিষাক্ত মদ পানে অসুস্থ জনৈক দেলোয়ার হোসেন রঞ্জুর ভাই মনোনয়ার হোসেন সোমবার রাতে বগুড়া সদর থানায় হোমিও ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩টি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীহ মোট ১৬জনের নামে মামলা দায়ের করেন।পরদিন মঙ্গলবার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বিষাক্ত মদ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের বেশ কয়েকটি হোমিও ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর রাতে পুলিশ অভিযানে নামে এবং ৪জনকে গ্রেফতার করে।
বুধবার দুপুর ১২টায় বগুড়া সদর থানা চত্বরে পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিষাক্ত মদ পানে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৮জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চিকিৎসক এবং মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ৮জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।’ তিনি বিষাক্ত মদ উৎপাদন এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে বলেন, ‘গ্রেফতার ৪জন প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে রেকটিফাইড স্পিরিটের সঙ্গে মিথানল মেশানোর কথা স্বীকার করেছন। তবে তারা দাবি করেছেন ওই দু’টি উপাদান মিশ্রিত করলে তা বিষাক্ত হয়ে ওঠে কি’না সেটি তাদের জানা নেই। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি আর আমাদের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।’