মোঃ আহসান হাবীব সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ঃ মায়ের মত আপন
কেহ নাই রে’। পৃথিবীর সভ্যতার উত্থান-পতনের যত গল্পই বলা হোক না কেন মায়ের
জন্য ভালোবাসার গল্পের কোনো শেষ নেই। কখনো আনন্দের, কখনো ভালোবাসা, আবার
কখনোবা অভিমান, অভিযোগের সবই যে শব্দে লুকিয়ে আছে তা হলো ‘মা’। মায়ের
ভালোবাসায় স্বার্থপরতার স্পর্শ নেই, নেই কোনো প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ।
এই
সেই মা, পৃথিবীতে যাকে নিয়ে রচিত হয়েছে এ রকম অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গান,
গল্প, ছড়া ও কবিতা। খান আতার এমনি একটি গান ‘মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে’। এর
বাইরেও মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক গান। সেসব গানে মাকে নিয়ে থাকা বিভিন্ন
রকম কথা শ্রোতাদের আপ্লুত করে। বারবার মাকে মনে করিয়ে দেয়। মায়ের প্রতি
শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে দেয়।
সমাজের
খুব গভীরে লুকিয়ে থাকা সীমাহীন অপ্রাপ্তি ও অমর্যাদার দেয়াল ভেদ করে যে মা
সন্তানকে সফল ও প্রতিষ্ঠিত করার ব্রত নিয়ে আমরণ ত্যাগ স্বীকার করেন সত্যিই
এমন মায়ের ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তাকে ভালোবাসা জানানোর জন্য আলাদা দিনেরও
প্রয়োজন পড়ে না। মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিক্ষণ।
কিন্তু
এরপরও বিশ্বের সব মানুষ যাতে এক সাথে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন
সেজন্য মে মাসের দ্বিতীয় রোববার আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করা হয়। আজ সেই
দিন। আন্তর্জাতিক মা দিবস। দিবসটিতে আলাদা করে অনেকেই মাকে শ্রদ্ধা ও
ভালোবাসা জানাচ্ছেন।
অনেকে
আবার একটি দিনকে ঘিরে মা দিবস পালনের বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, মায়ের
প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনো একটি দিনের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে
পারে না। আর মাকে শ্রদ্ধা জানাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতারও দরকার হয় না।
ইসলামে
মায়ের মর্যাদা অসীম। মাকে মহান আল্লাহ সমাসীন করেছেন অভাবনীয় মর্যাদার
আসনে। বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। বুখারি শরিফের হাদিসে
আছে রাসূল সা:কে এক সাহাবা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার
কার?
নবীজি বললেন, ‘তোমার
মায়ের।’ সাহাবি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?
রাসূল সা: আবার বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সাহাবা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার
ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?’ রাসূল সা: বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সাহাবা আবার
জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?’ তারপর বললেন, ‘তোমার
বাবার।’
মাকে স্মরণ করে
জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু
হয়েছি অথবা যা হতে আশা করি, তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।’ নেপোলিয়নের
সেই সার্বজনীন কথাটি খুব প্রসিদ্ধ- আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি
তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।আধুনিক মা
দিবসের প্রচলন হয় যুক্তরাষ্ট্রে। দিবসটির প্রবক্তা আনা মারিয়া রিভস
জার্ভিস। তার মা অ্যান মারিয়া রিভস জার্ভিস ছিলেন একজন শান্তিবাদী
সমাজকর্মী। তিনি ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
১৯০৫
সালে অ্যান মারা যান। তার মৃত্যুর পর মেয়ে আনা মায়ের স্বপ্ন পূরণে কাজ
শুরু করেন। সব মাকে শ্রদ্ধা জানাতে একটি দিবস প্রচলনের লক্ষ্যে সচেষ্ট হন
তিনি।১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায় আনা
তার মায়ের স্মরণে অনুষ্ঠান করেন। একই বছর মার্কিন কংগ্রেস মা দিবসকে
স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব নাকচ করে। তবে তাতে দমে যাননি
আনা। তিনি তার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন
অঙ্গরাজ্যে মা দিবস পালিত হতে থাকে।
অবশেষে
তার প্রচেষ্টা সফল হয়। ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট
উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। দিনটি
সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দেখাদেখি পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে
মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে।