বানারীপাড়া প্রতিনিধিঃবরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের খেজুরবাড়ি গ্রামে মাত্র ১৮ মাস আগে রবিউল হাওলাদারের নববধু হয়ে এসেছিলো স্বর্ণা আক্তার (১৯)। তার বাড়ি একই জেলার উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ভবানিপুর গ্রামে। পিতা কবির হোসেন মোল্লা। স্বর্ণার জন্মের ৬ মাসের মধ্যে তার মায়ের মৃত্যু হয়।বাধ্য হয়ে তার বাবা দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।সৎ মায়ের সংসারে নানা সমস্যার কারণে নানি মিনারা বেগমের কাছে আশ্রয় নেয় স্বর্ণা। ভরনপোষণ বাবদ ব্যয় বাবাই বহন করতেন। বাবার পছন্দ করা পাত্রের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় স্বর্ণা নিজের সংসার পাওয়ার আশায় মেয়েটি বুক ভরা আশা নিয়ে যে বাড়িতে রঙিন সাজে এসেছিল সেখান থেকেই সাদা কাপড়ে মোড়ানো নিথর দেহ বের হলো।
স্বর্ণার পিতা কবির হোসেন মোল্লা বলেন, স্বামী, শাশুড়ি , ভাসুরসহ প্রতিবেশী কারও প্রতি তার মেয়ের কোন প্রকার অভিযোগ ছিলোনা। তবে প্রায়ই তাকে (বাবাকে) মেয়ে তার বড় “যা” সুলতানা পাখির সাথে মনমালিন্যের কথা জানিয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বর্ণার স্বামী রবিউল হঠাৎ বেকার হয়ে ঘরে বসে প্রবাসী বড় ভাই কবির হাওলাদারের ইনকামে স্ত্রীকে নিয়ে খেতেন। তাকেও (রবিউলকে) বিদেশে নেয়ার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলো বড় ভাই কবির। এ নিয়েও দু’যায়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি হতো প্রায়ই। স¦র্র্ণাকে যিনি ছয় মাস বয়স থেকে লালন-পালন করেছেন সেই নানি মিনারা বেগমেরও একই বক্তব্য। তারা সুুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্বর্ণার আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবী জানিয়েছেন। তাদের মনে একটাই প্রশ্ন কেন স্বর্ণাকে বিয়ের মাত্র ১৮ মাসের মাথায় এই পথ বেছে নিতে হলো। কি হয়েছিলো, কি ঘটেছিলো ওইদিন শ্বশুরালয়।
উল্লেখ্য, ২৯ জানুয়ারি রবিবার ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য স্বামী রবিউল স্ত্রী স্বর্ণাকে নিয়ে ঘরের সামনের একটি টিওবয়েল থেকে একটি পাত্রে পানি নিয়ে দু’জনে একসাথে ওজু করেছিলো। এমনটাই বলছিলেন রবিউলের বাড়ির অন্য বাসিন্দারা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গভীর একটা ভালোবাসাও ছিলো বলে প্রতিবেশিরা জানান।
অনুমান সকাল ৮টা ৪০ মিনেটের সময় বাড়িতে এসে মাকে ভাত দিতে বলে স্ত্রীকে ডাকতে গিয়ে রবিউল দেখেন যে স্থানে স্বর্ণা নামাজ আদায় করেছিলো, সেই খাটের পাশেই (বারান্দার) আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলে আছে। পরে তার ডাকচিৎকার শুনে মা ও পাশের ঘরের এক যুবক মিলে স্বর্ণাকে ঝুলান্ত অবস্থা থেকে নিচে নামায়। বানারীপাড়া থানা পুুলিশ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য স্বর্ণার মরদেহ বরিশাল শেবাচিম মর্গে পাঠায়।