বানারীপাড়া !! বরিশালের বানারীপাড়া কৃষিকাজের জন্য সমৃদ্ধশালী এলাকা।উপজেলার আঁশিটির বেশি গ্রাম কৃষিকাজের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত । এখানে কৃষকরা কৃষিকাজকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন।ঘরবাড়ি মিল-কারখানা এবং শিল্পের প্রসারে ক্রমশই আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।এমন অবস্থায় কৃষকরা স্বল্প পরিসরে সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষির বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করছে। পাশাপাশি সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে আরো নতুন নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবনের। বানারীপাড়ার উপজেলার আলতা,গাভা,নরেরকাঠী, কৃষিকাজের আদর্শ ভূমি ।গাভার রানীরবাড়ী এলাকায় চাষিররা একই জমিতে সবজি,ফল ও মাছ চাষ করে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ পদ্ধতিতে প্রথমে সমতল ভূমি কেটে নালা তৈরি করে দুপাশের মাটি সরিয়ে সাড়িবদ্ধ লম্বা কান্দি তৈরি করে তার পর কান্দির দুপাশে সারিবদ্ধ ভাবে মাল্টা,আমড়া,পেয়ারা গাছ রোপন করা হয়।এবং কান্দির মধ্যে শালগম, ফুলকপি, পালংশাক, বাঁধাকপি,লালশাক,পুঁইশাক, ধনে পাতা,শিমসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়। নালার মাচায় ঝুলিয়ে লাউ,মিষ্টিকুমড়া ও শসার চাষ করে। নালার প্রচুর পরিমানে পানি থাকায় সবজি-ফলে পানি সেচের জন্য কোন সমস্যা হয়না। নালার পানিতে চাষ করা হয় গ্রাস কাপ, সিলভার কাপ, পাংগাস, সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।এলাকার কৃষক রাধেশ্যাম বাবু (৩৫) জানান, স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা পাওয়ায় এই পদ্ধতিতে অনেক শিক্ষিত বেকাররা আগ্রহী হচ্ছে এই সমন্বিত চাষাবাদে।মাল্টাচাষ ক্রমশ বেড়েই চলেছে এভাবে চললে আমাদের দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি খাতে ভূমিকা রাখবে।আরেক মাছচাষি মোজাম্মেল (৪৫) জানান প্রায় ১ বিঘা সমপরিমাণ জমিতে মাছচাষ করছি নিয়মিত পরিচর্যা করছি। নালার মাছের সাইজ প্রায় দেড় কেজির সমপরিমান হয়েছে তাই আশা করছি মৌসুমে বিক্রি করে আরোও মাছচাষের পরিমাণ বাড়াবো।কিন্তু শুরুতে বিভন্নজন বিভিন্ন কথাবার্তা বলেও এখন অনেকেই মাছচাষের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে প্রকাশ করে । এ ব্যাপারে বানারীপাড়া কৃষি কমকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। যদি কোনো কৃষক সমস্যার জন্য আলাপ করে তাহলে আমরা তাকে অবশ্যই পরামর্শ দেব।