ডেস্ক: লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) নড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে রোববার (১১ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেছে পিবিআই যশোর।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর ফরাজির ছেলে রকিবুল ইসলাম ফরাজি, যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধুলগ্রামের বর্তমানে খুলনার ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামের আরশাদ আলীর স্ত্রী হাফিজা বেগম (৫৫), মেয়ে শিরিন আক্তার (৩৫) এবং সুমনা আক্তার (২৯)।
এ ব্যাপারে যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, আটকদের নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রোমের রবিউল ইসলাম মৃধা ছেলে নাঈম মৃধা (২৫) এবং ভাগ্নে জহিরুল ইসলামকে (২৫) চরতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে লিবিয়ায় পাঠায়। তদন্ত করে দেখা গেছে, মা হাফিজা ও মেয়ে সুমনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মার্চ মাসে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
লিবিয়া থেকে ইতালি গেলে তাদেরকে এক লাখ টাকা বেতন দেওয়া হবে বলে কালিয়ার এক ব্যক্তি প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবে তারা রাজি না হওয়ায় দেশটির অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নাঈম ও জহিরুলের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের নিকট মুক্তিপণ দাবি করে আসামিরা। বাধ্য হয়ে রবিউল মৃধা বিভিন্ন মাধ্যমে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেয়। এরপর থেকে ছেলে ও ভাগ্নের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন না রবিউল মৃধা। পরে তিনি অভিযুক্ত চারজনের নামে একটি মামলা করেন। পিবিআই যশোরের সদস্যরা শনিবার (১০ ডিসেম্বর) তাদের আটক করে নড়াইল আদালতে পাঠালে তারা বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।