সেলিম শিকদার,সিরাজগঞ্জঃ- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুলাই) সকালেদিবসটি পালন উপলক্ষে শেখ কামালের প্রতীকৃতিতেপুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাডঃ কে এম হোসেন আলী হাসান,সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না সহ জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ, থানা আওয়ামী লীগ,জাতীয় শ্রমিক লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, সহ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।বিকালে (৫ টায়) দলিয় কার্যালয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যাগে দোয়া ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাডঃ কে এম হোসেন আলী হাসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদারের আহবানে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি , সাবেক সহ -সভাপতি এ্যাডঃ বিমল কুমার দাস।অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ- সভাপতি আলহাজ্ব ইসাহাক আলী তালুকদার, সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফারুক,সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন,জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আঃ কাদের চাঁন,সিরাজগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ ও পাবনা সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নারী নেত্রী সেলিনা বেগম স্বপ্না, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা হাসনা হেনা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সজল, যুব মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর নারী নেত্রী রুমানা রেশমা, সাবেক যুবলীগের সভাপতি রাশেদ খান জুয়েল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম, সেচ্ছাসেবক লীগের আল আমিন তালুকদার, ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান হাবিব খোকাপ্রমূখ। জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব এহসান এরসঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানেবক্তরা বলেন, শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের এ দিনে তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শহীদ শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি এ (অনার্স) পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ‘ছায়ানট’-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি শুধু উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না, ছিলেন ঢাকা থিয়েটারেরও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। শৈশব থেকে খেলাধুলায়ও প্রবল উৎসাহ ছিল তার।শেখ কামাল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন্ড লাভ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং শাহাদাত বরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে বঙ্গবন্ধুসহ তার সপরিবারে হত্যার নির্মম ঘটনায় মাত্র ২৬ বছর বয়সে শাহাদাতবরণ করেন ।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু সহ ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করেন কোবদাস পাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মোঃ রকিবুজ্জামান। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।