সেলিম শিকদার,সিরাজগঞ্জঃ-
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সড়াতৈল-অলিপুর আঞ্চলিক সড়কের ফুলজোড়া নদীর (খালের) ওপরে ব্রিজের নির্মাণা কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আঞ্চলিক এই সড়কের মোধ্য পথে নদীর উপর ব্রিজ না থাকার কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষদের।
শনিবার (১৬ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে ২০ মিঃ চেইনেজে ৫৪.০০ মিঃ দীর্ঘ আর সিসি গার্ডার ব্রিজটি ২ কোটি ৬৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে নির্মাণকাজ শুরু করে মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ইতিমধ্যে ব্রিজের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই ব্রিজটি নির্মাণ হলে যথার্থ সুবিধা ও সুফল পাবেন উপজেলার সড়াতৈল, আমডাঙ্গা, উলিপুর গ্রামসহ ২০টি গ্রামের ২০ হাজার সাধারণ মানুষসহ এলাকার জেলে, কৃষক থেকে শুরু করে সকল ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কৃষক আবুল কাশেম বলেন, উপজেলার সড়াতৈল-অলিপুর আঞ্চলিক সড়কের ফুলজোড়া নদীর ওপরে এই ব্রিজ নির্মাণ হলে আমাদের আশে-পাশে কয়েকটি গ্রামের মানুষ সুবিধা পাবে। নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় আমাদের কৃষি পন্য পারাপার এবং জরুরী রোগিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এখন চলাচল করতে হয় নৌকায়। আর শুস্ক মৌসুমে পায়ে হেটে ফুলজোড় নদী পার হয়ে হাট-বাজারে আসতে হয়। ব্রিজটি নির্মাণ হলে আমাদের এই সমস্যাগুলো আর থাকবে না। আমরা অনেক সুবিধা পাবো বলে জানান ।
একই এলাকার শিক্ষার্থী সোহেল রানা, রেদোয়ান, মিজানুর,শহিদুল বলেন, আমদের স্কুল-কলেজে চলাচলের নানা সমস্যা। নৌকা করে এই ফুলজোড় নদী পার হতে হয় । এতে আমাদের নানা দুর্ঘটনারও শিকার হতে হয়। ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ হলে আমার উপকৃত হবো। এবং সঠিক সময়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারবো।
চাকুরীজীবি টি এম মাকসুদুর রহমান রাব্বি বলেন, ভৌগলীক ভাবে আমাদের এই গ্রামটি দুই ভাগে বিভক্ত। বন্যার সময় অনেক সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। সঠিক সময় মত অফিসে যাওয়া হয় না। অনেক সময় নৌকা পারাপারে আমাদের জান মালের ক্ষতি হয়। এই ব্রিজটি হলে আমরা উপকৃত হবো।
স্থানীয় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান তালুকদার, শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ অনেকেই বলেন, এলাকাবাসীর দাবিতে ঐ নদীর (খালের) ওপর ৫৪ মিটার লম্বা এ ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। যথাসময়ে ঐ ব্রিজের কাজ শেষ হলে বর্ষা মৌসুমে আর নৌকায় এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হবে না। এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের সুবিধা পাবে এবং সঠিক সময় আমাদের জমির উৎপাদিত পন্য হাট-বাজার নিয়ে বিক্রি করতে পারবো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী মোরশেদুল ইসলাম লিটন বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ব্রিজের ২টি এপ্যার্টমেন্ট ও ২টি ক্যাপ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইতিমধ্যে ব্রিজের নির্মাণ কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সুষ্ঠভাবে ব্রিজটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের জন্য এস্টিমেট ও ডিজাইন অনুসারে যে সকল টেস্ট ধরা আছে।সিডিউলে উল্লেখিত সে সকল টেস্ট যথা নিয়মেকাজের গুনগত মান বজায় রেখে অতি স্বল্প সময়েই উক্ত ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ জানান, ব্রিজ নির্মাণকাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। আমি নিয়মিত ব্রিজের কাজ পরির্দশন করছি। আশা করছি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যদি সঠিকভাবে কাজ করে আগামী ৪/৫ মাসের মধ্যে এই ব্রিজের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান।