মোঃ শাহীন হাওলাদার মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ময়দা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১৫ আগস্ট আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে ৩ জন আহত হয়। আহতরা হলেন,মিনারা বেগম (৫৫) জেসমিন বেগম (২২) মোঃ ইমরান সিকদার (২০)।
ঘটনা সুত্রে জানা যায়,মোঃ শাহজাহানের আউশ ধানের পালায় বিষাক্ত ঔষধ দেয়। এতে মোসাঃ জেসমিনের ১০/১৫ টা হাঁস মুরগি মারা যায়। এই ঘটনা মোঃ শাহজাহানের কাছে বলতে গেলে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহজাহানের স্ত্রী রাহিমা বেগম হাতাহাতি-মারামারি শুরু করে দেয়। পিছন থেকে এসে শাহজাহান ও মামুন লাঠিসোঁটা লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটানো শুরু করে। এ দেখে জেসমিনের চাচি শাশুড়ি এগিয়ে এলে শাহজাহান তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এতে জেসমিনের চাচি শ্বাশুড়ি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এবং সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী জেসমিনকে শাজাহানের ভাইপো সজীব ও মামুন চুলের মুঠি ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করে ও মামুন জেসমিনের তল পেটে লাথি মারে। এসময় সজীব তার পড়নের কাপড় টানাহেঁচড়া ও শ্রীলতাহানি চেষ্টা করে।
স্থানীয় লোকজন থামাতে গেলে তাদেরকে মামুনের মা আমেনা বলেন,আমার ছেলেকে পায়ের তলে ফেলিয়ে জবাই করে তোদের সাথে বুঝাপড়া করবো। ইমরান মাঠে ধান কাটছিলো,ডাক চিৎকার শুনে বাড়িতে চলে এসে দেখে মারামারি চলতেছে। শাহজাহানের ভাই আইয়ুব আলী তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটানো শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে ইমরান আঘাত ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায়। আহতদের মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে আসার পরে আমেলার বড় মেয়ে লাখি এসে জেসমিনের শাশুড়িকে গলা টিপে ধরে,হাসপাতালের ভিতর মারামারি শুরু করে দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে মারমারি নিয়ন্ত্রণ করে। মিনারা বেগমকে কর্মরত ডাক্তার দ্রুত বরিশাল শের-ই হাসপাতালে রেফার করেন। বাকি দুইজন মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। মিনারা বেগম এখনো বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। মিনারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মির্জাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহিবুল্লাহ বলেন,মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।