natv 24 ডেস্ক: বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হলেই নাশকতার পরিকল্পনা করে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের অপতৎপরতা রোধে কাজ করছে সরকার।
শনিবার (১৪ নভেম্বর ) দুপুরে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরপরই নাশকতা ও সহিংসতা করার চেষ্টা করে, যা অতীতেও করেছে। এবারও ঢাকা উপনির্বাচনে হারার পর তারা রাজধানীতে বাসে আগুন দিয়ে নাশকতা করার চেষ্টা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তাদের সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভাইরাল হওয়া ফোনালাপ যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো বিশ্লেষণ করে যারা এর হোতা, যারা এগুলো করিয়েছে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা হতে পারে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু কথোপকথন পাওয়া গেছে, সেখান থেকে দেখা যায় যে ফলাফল মেনে নিতে পারেনি বলেই তারা (বিএনপি) এমনটি করেছে। যেখানেই তারা পরাজিত হয়েছে সেখানেই তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। যারা এ অগ্নিসংযোগ করেছিলেন, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে অনেকজনকে আমরা চিহ্নিত করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করে আমরা তাদের আইনের কাছে সোপর্দ করেছি। নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান খান বলেন, গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা নেই। তাদের তৎপরতা চলছে বলেই এখন দেশ শান্তিতে রয়েছে। আমরা এতটুকু বলতে পারি দেশে আমরা কোন অরাজক পরিস্থিতি হতে দেব না।
সরকারি এজেন্টরা বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই কথার কোনো সত্যতা আছে বলে আমি মনে করি না।
এদিকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আগুনের ঘটনায় ১৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সর্বশেষ শনিবার পল্টন থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ২৬ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরের পর পর এক ঘণ্টার ব্যবধানে মতিঝিল, শাহবাগ, পল্টনসহ রাজধানীর ৯টি স্থানে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। ঘটনার দিন ১৮ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, কার ইন্ধন রয়েছে তার প্রাথমিক একটি তথ্য পুলিশের কাছে এসেছে।