ভোলা প্রতিনিধিঃ আগামী বুধবার রাত(৪ নভেন্বর) ১২ ঘটিকার পরেই নদীতে ইলিশ শিকারে যাবেন জেলেরা।
আর তাই বসে থাকার সময় নেই কারো। মাছ শিকারে যাওয়ার আগেই নৌকা প্র¯ু‘ত
করছেন জেলেরা।
কেউ নৌকা মেরামত, কেউ নৌকা-ট্রলারে রং দিচ্ছেন, কেউ বা ব্যস্ত জাল তৈরী আর
ট্রলারে ইঞ্জিন মেরামতের কাজ নিয়ে সময় পার করছেন। কেউ বা নতুন করে নৌকা
বানাচ্ছেন।
সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাড়াতে এমন প্র¯ু‘তি জেলেদের। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ঠিক
ততই যেন ব্যস্ততা বাড়ছে তাদের।
সোমবার (২ নভেন্বর) সকালে ভোলা সদরের ইলিশা ফেরীঘাট এলাকায় মেঘনা পাড়ে জেলেদের
এমন চিত্র দেখা গেছে।
নদীর কুল ঘেষে বাঁধের উপর রাখা হয়েছে সারি সারি নৌকা ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার।
সেখানেই ওই নৌকা বা ট্রলার মেরামতের কাজ করছেন জেলেরা। বেকার জেলেদের সময়
কাটছে নৌকা বা ট্রলার প্র¯ু‘ত নিয়ে। নদীতে যাওয়ার উপযোগী করতে দ্রæত নৌকা
প্র¯ু‘ত করতে দেখা যাচ্ছে জেলেদের।
শুধু ইলিশা ঘাট নয়, নৌকা প্র¯ু‘তের এমন চিত্র তুলাতলী, ভোলার খাল, ইলিশা
বিশ্বরোডসহ বেশীরভাগ এলাকার।
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন
জেলার দুই লাখের অধিক জেলে। ৪ নভেম্বর রাত ১২টার পর থেকে মাছ ধরা শুরু হবে। সেই
দিনটিকে সামনে রেখে আগ থেকে প্র¯ু‘তি নিচ্ছেন জেলেরা। মেঘনা পাড়ে ব্যস্ততার
মধ্যে দিন পার করছেন তারা।
জেলে রহিম ও রুবেল জানায়, এখন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, নৌকা-ট্রলার নিয়ে নদীতে যাওয়া
হয়নি। ধার দেনা করে দিন পার করছি। সামনে আসছে মাছ ধরার সময়,তাই নৌকা
মেরামত করছি। আগে থেকে নৌকা তৈরী করতে না পারলে তখন সময় পাবো না।এখনি
নৌকা প্রস্তুুত করার সময়, তাই নৌকা মেরামত করছি। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই ইলিশ
শিকারে নেমে পড়বো।
মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য নৌকা মেরামত ও রং দেয়ার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন
জেলে মনিন ও মিজান।
তারা জানান, এ বছর ভরা মৌসুমে তেমন মাছ ধরা পড়েনি। আশা করি ইলিশ নিষেধাজ্ঞার
পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। তখন মাছ ধরেই ঋন পরিশোধ করতে পারবো। ঘুরে
দাড়াতে পারবো,মাছ ধরা শুরু হলে সব জেলে নদীতে নেমে পড়বেন।
ভোলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মোঃ এরশাদ আলী বলেন, জেলেদের দিন
কষ্টে কাটছে, তবুও তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারে যায়নি। এখন
জেলেদের কষ্টের দিন শেষ হতে যাচ্ছে, তারা এখন মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাল নৌকা,
ইঞ্জিন মেরামত করার কাজ নিয়ে ব্যস্ত তারা। ইলিশ শিকার করে ঘুরে দাড়াতে পারবেন সে
ব্যাপারেও আশাবাদি তারা।
ভোলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, এবার ইলিশ রক্ষা অভিযান
শতভাগ সফল হয়েছে। এতে আমাদের ইলিশ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে। এ বছর ইলিশ
উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন।
তিনি বলেন, ২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞা সময় জেলে পুনঃবাসনের জন্য বরাদ্দকৃত চাল
বিতরন শেষ হয়েছে। ৪ নভেম্বর রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা মাছ শিকারে যেতে পারবে।