মোঃ এমদাদুল হক স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার নন্দীগ্রাম ৪ নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ছোট চাঙ্গইর গ্রামে ১২ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ১২ দিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি অাজও। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে শিমু আক্তারকে (১২) কৌশলে রুহুল আমিন ইন্টু অপহরণ করে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়া গেলে থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্ত ব্যক্তি থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ছোট চাঙ্গুইর গ্রামের মোঃ উছিরের ছেলে মোঃ রুহুল আমিন ইন্টু (৩০)। তিনি ৩ টি বিয়ে করেছিলেন বর্তমানে এক স্ত্রী নিয়ে থাকেন। সেই স্ত্রীও অপহরণ ঘটনায় অভিযুক্ত।
শিমু আক্তারের মা-বাবা ঢাকা থাকার সুবাদে শিমু দাদীর কাছেই বড় হচ্ছিল। মেয়ের অভিভাবক না থাকায় অভিযুক্ত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশি বৈঠক করে টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করতে দফায় দফায় মেয়ের বাবা জিয়া রহমান কে চাপ দেয় গ্রামের মাতব্বর তোজাম ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আমার ১২ বছর বয়সী মেয়েকে অপহরণ করে পালিয়ে নিয়ে গেছে মোঃ উছিরের ছেলে মোঃ ইন্টু (৩০)। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশি বৈঠক করতে আমাদের কে বলে গ্রামের মাতব্বর তোজাম দফায় দফায়। ঘটনার পরপরই নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করতে যাওয়ার সময় গ্রামের মাতব্বর তোজাম মামলা করতে না করে। তিনি অভিযুক্ত রুহুল আমিন ইন্টু কে নিয়ে এসে টাকা পয়সা জায়গা জমি নিয়ে দিয়ে গ্রামে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে।
২ দিন পর তোজাম এসে বিভিন্ন তালবাহানা করে বলে অভিযুক্ত রুহুল আমিন ইন্টু কে নিয়ে আসতে সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে নন্দীগ্রাম থানায় এজাহার করতে গেলে অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী পরিবার বলেন , গত সোমবার ১৯ অক্টোবর অনেক খোঁজাখুঁজির পরে মেয়েকে খুঁজে না পাওয়া গেলে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকেন। অপহরণের ১২ দিন পার হলেও মেয়েকে খুঁজে পাননি তারা। মেয়ে কোথায় আছে কি করতেছে তাও জানে না। ভুক্তভোগী পরিবার কেঁদে কেঁদে মেয়ে কে ফেরত চাইলেন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাইলেন । ১২ বছরের মেয়েকে ৩০ বছরের যুবক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে।
অভিযুক্ত রুহুল আমিন ইন্টুর মা বলেন, আমার ছেলে কোথায় গেছে আমি জানিনা তবে গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা করার জন্য অনেকজন আসছিল। গ্রাম্য মাতব্বর তোজাম আমাকে এইসব মীমাংসার কথা বলে। টাকা পয়সা ও জমি জমা দিয়ে এই মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে তোজাম।
নন্দীগ্রাম থানার এ এস আই কালাম জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।