মোঃ জহুরুল ইসলাম, কাজিপুর প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের
কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের পারুলকান্দি গ্রামের
কৃষকদের আশি বিঘা জমি দীর্ঘ একযুগ পর জলাবদ্ধতার কবল
থেকে মুক্ত হলো। গত শনিবার(১৫ আগস্ট) বিকেলে ড্রেন খনন করে
পানি নিঃষ্কাষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়সূত্রে এবং
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সূত্রে জানা
গেছে, উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের
পারুলকান্দি গ্রামের দক্ষিণ পাশে একটি পুকুর খনন করে ওই
গ্রামের মোনায়েম প্রামানিক। এরপর তিনি ওই জমি সংলগ্ন তার
নিজস্ব কিছু জমিসহ অন্যের জমিতে জোরপূর্বক দখল করে মাছ
চাষ করে আসছিল। এ নিয়ে বিচার শালিশ হলেও মোনায়েম ওই
বিচারের রায় মানেননি। গত ৪ আগস্ট গ্রামবাসী এ বিষয়ে
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি দরখাস্ত দেয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তের জন্যে সোনামুখী
ইউনিয়নের নায়েবকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দিলে
গত শনিবার (১৫ই আগস্ট) কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার,
কাজিপুরের সাবেক এমপি প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় ও
কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী ও সহকারী
কমিশনার (ভূমি) এমি,এম আরিফুল ইসলামকে সাথে নিয়ে
পারুলকান্দি গ্রামে যান। এসময় তারা উপস্থিত ভূক্তভোগী কৃষক ও
পানি আটকে রেখে মাছচাষ করা মোনায়েম প্রামানিকের সাথে
কথা বলেন। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে পুকুরের পাশ দিয়ে
একটি নালা খনন করে পানি বের করে দেয়া হয়। এসময় সাবেক
ইউপি সদস্য ও চাষী মোজাহার আলী জানান,‘ আজ আমরা খুব
খুশি, বারো বছর পর নিজ জমিতে রোপা ধান লাগাতে পারছি।
আরেক ভুক্তভোগী রিপন মিয়া জানান, ‘ ইউএনও স্যারের প্রচেষ্টায়
আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান পেয়েছি।
’মাছচাষী মোনায়েম প্রামানিক জানান, ‘আমি আগে পানি
বের করার জন্যে পাইপ দিয়েছিলাম। সবার সুবিধার জন্যে এখন বড়
ড্রেন করে দেয়া হলো।’ কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার
জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, ‘সাবেক এমপি এবং উপজেলা
চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সবার মঙ্গলের জন্যে ড্রেন করে দেয়া
হয়েছে। এতে করে চাষীদের জমি আর অনাবাদী থাকবে না।