মোঃ মিজানুর রহমান বগুড়া জেলার বিশেষ প্রতিনিধি:: করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বগুড়া পৌরসভার ৯টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা দিয়ে অবরুদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার বিকাল ৫ টা থেকে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এলাকাগুলো হল- চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, নারুলী, জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর, মালতিনগর, ঠনঠনিয়া, হাড়িপাড়া ও কলোনি।
করোনাভাইুরাস শুরু হওয়ার পর লকডাউন তুলে নিলে জেলার উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার মধ্যে বগুড়া সর্বোচ্চ করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়।
এর কারণ হিসেবে বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র শামসুদ্দিন শেখ হেলাল জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ অনান্য জেলা থেকে লোকজন বগুড়ায় যাতায়াত এবং অবস্থান করার কারণে জনবহুল এ জেলায় করোনাভাইরাসের রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।জেলা প্রশাসকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রেড জোন’ এলাকায় সকল ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করবেন।
এছাড়া সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ থাকবে। তবে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি গাড়ি চলাচল জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ করে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া সব ধরনের দোকান মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে তবে ওষূধের দোকান ইন্টারনেট সেবা ও মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিসেবা এর আওতার বাইরে থাকবে। কোভিড-১৯ মোকাবেলা ও জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে সকল হাসপাতাল চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা এর আওতার বাইরে থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- বগুড়া জেলায় আন্তঃউপজেলা যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বের হলে সকলকে আবশ্যিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং যথাযথভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। এই দুর্যোগকালীন সময়ে প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ খাদ্য সামগ্রী বা অন্য কোন পণ্য বিতরণ করা যাবে না।
বগুড়া সদরের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশূ বলেন, বগুড়ায় ১ হাজার ২৭৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; এর মধ্যে শুধু বগুড়ার পৌর এলাকাতেই ৮১৩ জন রয়েছেন। রেড জোন এলাকায় নিয়ম মানতে কঠর ব্যবস্থা নে্ওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহামদ জানান।