চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃশাহীন আলম : আমের রাজধানী বলে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ আম বাজার রহনপুর ষ্টেশন আম বাজারে আগামী ২ জুন থেকে আম কেনা-বেচা শুরু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে । বুধবার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। করোনা পরিস্থিতিতে আম বিপনণ নিয়ে যখন আম চাষীরা চিন্তিত ঠিক তখনই ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও কাল বৈশাখী ঝড়ে আম ঝরে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আম চাষীরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে এবার উপজেলায় ৪ হাজার ১শ ৭৫ হেক্টর জমিতে ১৯ জাতের আম ফলের চাষ হয়েছে। চলতি বছর আম উৎপাদন আশা করা হচ্ছে ৪৫ হাজার ৯শ ২৫ মেট্টিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ১৮ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, এবার বিলম্বে মুকুল আসায় এবং বৈরি আবহাওয়ার কারণে আম কম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিপনণ নিয়ে চিন্তিত থাকায় আম চাষীরা গাছের পরিচর্যা ও সেভাবে করেনি। তবে এবার আম গাছে তুলনামূলক ভাবে কীটনাশকের ব্যবহারও কম হয়েছে। তাই এবার অনেকটা প্রকৃতি গত ভাবেই আম বেড়ে উঠছে এবং পরিপক্ক হতে সময় লাগছে। এবার বিষমুক্ত আম খেতে পারবে ভোক্তারা।
এ প্রসঙ্গে আম চাষী সমবায় সমিতি সভাপতি মাইনুল বিশ্বাস জানান, এমনিতে করোনা কারণে আম বিপনণ নিয়ে যখন আমার চিন্তিত ঠিক তখনই ঘূর্ণিঝড় আম্পানে প্রভাবে ও কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টির কারণে প্রায় সিকিভাগ আম ঝড়ে পড়েছে।
এছাড়া আম বিপনণের বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আমাদের কিছু সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গুটি জাতীয় আম দিয়ে আগামী জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ এলাকায় আম মৌসুম শুরু হবে। জেলার অন্যতম বৃহৎ আম বাজার রহনপুর ষ্টেশন আম বাজারে করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা এবার হচ্ছে না বলে রহনপুর আম আড়ৎদার সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান খান মতি জানান।
তিনি আরও জানান, আম বাজার স্থানান্তর না হলেও রহনপুর রেল ষ্টেশন চত্বরে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে আম কেনা-বেচা চলবে এবং আড়ৎ গুলোতে আম প্যাকেট জাত করা কাজ অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণবঙ্গে আম সরবরাহের জন্য রহনপুর রেল ষ্টেশন থেকে একটি স্পেশাল ট্রেন দাবী করেন