মুহাম্মদ আরফাত হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ঃ করোনার কবলে পড়ে কপাল পুড়ছে সাতকানিয়ার কৃষকদের। লাভের আশায় উৎপাদিত সবজি পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি দোকান-পাট ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে আসতে পারছে না পাইকাররা। ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে এসেছে সবজির দাম। তবে কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, পাইকাররা সিন্ডিকেট করে স্থানীয় বাজারে সবজির দাম কমিয়ে দিয়েছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতকানিয়ার শিশুতল, আমতল, বাজালিয়া, ফকিরখীল, খোদার হাট ও চন্দনাইশের দোহাজারীতে প্রতিদিন সবজির পাইকারি বাজার বসে। চট্টগ্রাম নগরী, কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসব বাজার থেকে ট্রাকযোগে সবজি নিয়ে যান। কিন্তু কয়েকদিন ধরে এসব বাজারে আগের মত সবজি বিক্রি হচ্ছে না। ফলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন কৃষকরা।গতকাল রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কৃষকরা বাজারে প্রচুর টমেটো, বেগুন, শিম, বরবটি, বাঁধাকপি, ঢেঁডস, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, করলা ও শসা নিয়ে এসেছেন। কিন্তু বাজারে পাইকারি ক্রেতা খুবই কম। ফলে কেউ কেউ কম দামে সবজি বিক্রি করে দিচ্ছেন। আবার অনেকে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছেন।গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৩ থেকে ৪ টাকা, বেগুন ২ থেকে ৩ টাকা, বরবটি ১৫ টাকা, করলা ১৫ থেকে ২০ টাকা, শসা ১৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১০ থেকে ১২ টাকা, চিচিঙ্গা ১৮ থেকে ২০ টাকা, শিম ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।ছদাহা এলাকার কৃষক মো. হারুন বলেন, আমি ৭ কানি জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এখন প্রতিদিন দেড় থেকে ২ টন টমেটো ছিড়তে হয়। শুরুর দিকে বেশ ভাল দাম পেয়েছি। কিন্তু এখন বাজারে পাইকার কম আসছে। ফলে গত সপ্তাহে যে টমেটো ১২ থেকে ১৫ টাকা দামে বিক্রি করেছি, তা এখন ৩ থেকে ৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, জমি তৈরি থেকে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি টমেটোর পেছনে ৬ থেকে ৭ টাকা খরচ পড়ে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকদের পথে বসতে হবে।নলুয়ার কৃষক আলী আহমদ বলেন, আমি ৪ কানি জমিতে সবজি চাষ করেছি। আমার পুরো পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল। গত শনিবার বাজারে টমেটো ও বরবটি বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। প্রতি কেজি বরবটি ১৫ টাকা দামে বিক্রি করতে পারলেও টমেটো পারিনি। পরে বিক্রি করতে না পারা টমেটো এলাকায় বিতরণ করেছি। এভাবে চলতে থাকলে লাভ তো দূরের কথা, পুঁজিও উঠাতে পারব না।একই কথা জানান কাঞ্চনা এলাকার কৃষক মো. ইলিয়াছ। তিনি গত সপ্তাহে পাইকারি হিসেবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় করলা বিক্রি করেছেন। কিন্তু শনিবার ১৫ থেকে ২০ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে ক্ষেতে এসে পাইকাররা ভাল দামে করলা নিয়ে গেছেন। এখন করলা ছিড়ে বাজারে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও পাইকার পাওয়া যাচ্ছে না।সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় ১ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে কৃষকরা এসব সবজি বিক্রি করতে পারছেন না। বাজারে মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষেত থেকে টমেটো ছিড়ছে না। অন্যান্য সবজিরও একই অবস্থা। আসলে বিরাজমান পরিস্থিতিতে কিছু করার নেই।