ডা. জাহেদ পারভেজ : চুল পড়ে যাচ্ছে অথবা মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে এমন সমস্যা অনেকেরই এখন দেখা যাচ্ছে । এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দুটি কাজ করতে হবে। একটি হলাে চুল ঝরে যাওয়া রােধ করা, অপরটি নতুন চুল জানাে। চুল ঝরে যাওয়া রােধ করা নিয়ে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন লেখালেখি দেখি। সেই তুলনায় নতুন চুল গজানাে নিয়ে জানার সুযােগটা কম। তাহলে চলুন জেনে নিই কিভাবে নতুন চুল গজানাে সম্ভব। বয়স বাড়ার কারণে অথবা বংশগত বা পরিবেশের প্রভাবে আমাদের চুল পড়ে যেতে থাকে। এ কারণে আমাদের মন তাে খারাপ হয়ই, আবার মনে হয় যদি কৈশােরের মতাে চুল আবার হতাে কোনােভাবে। আমাদের মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে যদি আমরা উদ্দীপনা দিতে পারি, তাহলে মাথায় নতুন চুল গজানাে সম্ভব। প্রতিটি চুলের গােড়ায় রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা রয়েছে।এটাকে যদি বাড়ানাে যায়,বা হেয়ার ট্রান্সপ্যাল্নট করা যায় তাহলেও নতুন চুল গজানাে সম্ভব।
প্রথম পদ্ধতি :
নিয়মিত ম্যাসাজ করতে হবে। এতে করে স্ক্যাঙ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং স্ক্যাল্প উদ্দীপিত হবে। এক টেবিল চামচ ভিটামিন ই নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে থাকুন। ভিটামিন-ই চুলের জন্য প্রয়ােজনীয় নিউট্রিশন এর যােগান দেয়। ভিটামিন ই-এর সঙ্গে চা-এর নির্যাস যােগ করতে পারেন। এই দুটো ভালােভাবে মিশিয়ে হাতের তালু এবং আঙুলের সাহায্যে পুরাে মাথার চুলের গােড়ায় গােড়ায় লাগিয়ে নিন। ৫-৬ মিনিট ম্যাসাজ করুন। তারপর মােটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে নিন। চুলগুলােকে ছােট ছােট ভাগে ভাগ করে সম্পূর্ণ চুল
আঁচড়ে নিন। কিছুক্ষণ পর সাধারণ ভাবে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুল গজানাের জন্য দিনে ৩ বার ম্যাসাজকরতে হবে এই নিয়মে। কিন্তু বারবার শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের ক্ষতি হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতি :
হেয়ার ট্রান্সপ্যাল্নট –
হেয়ার ট্রান্সপ্যাল্নটের মাধ্যমও চুল লাগানো যায়,চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সম্পৃর্ন আধুনিক পদ্ধতিতেও তা সম্ভব। এছাড়াও আমাদের চুলের গােড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে। ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় তবে নতুন চুল গজানাে সম্ভব। বাজারে ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার কিনতে পাওয়া যায়। এর সাহায্যে আপনি স্ক্যাল্পে চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারেন। যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে যাচ্ছে, তাতে বেশি মনােযােগ দিন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ভাইব্রেট করুন।
তৃতীয় পদ্ধতি :
এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যেটা আপনার স্ক্যাল্পের মৃত কোষগুলাে ঝরে যেতে সাহায্য করবে। এ মৃত কোষগুলাে স্ক্যাল্পের ফলিকল ব্লক করে রাখে, যে কারণে নতুন চুল গজাতে পারে না। কেননা তখন স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। অল্প পরিমাণ শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় ম্যাসাজের মতাে করে লাগিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। নতুন চুল গজানাের জন্য শ্যাম্পু দিয়ে ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন
চতুর্থ পদ্ধতি :
এই পদ্ধতি হল মেডিকেশন।
চুলের জন্য ওষুধ। অনেক গবেষণার পর ফেনাস্টেরাইড আর মিনােক্সিডিল নামের দুটো ওষুধ চুল গজানাের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ওষুধের-ই সাইড ইফেক্ট আছে। তবে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া করবেন না।
চিকিৎসা :
যেমন- মিনােক্সিডিল এর দুইটা কনসেনট্রেশন পাওয়া যায়। ২% আর ৫%। ২% মিনােক্সিডিল মেয়েদের জন্য আর ৫% মিনােক্সিডিল ছেলেদের জন্য। এটা বাজারে জেনােগ্রো নামে পাওয়া যায়। স্প্রে করে মাথার স্ক্যাল্পে দিতে হয়।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনঃ
(১) প্রােটিন : পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রােটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন আমাদের চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত। এটি অ্যামিনাে এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরনের প্রােটিন। তাই নতুন চুল গজানাের জন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনাে এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম- আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলাের অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন। সয়াবিন, মটরটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন। তবে নন-ভেজিটেরিয়ান খাবারে প্রােটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
(২) আয়রন আর জিঙ্ক: আয়রন আর জিঙ্ক আপনার মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে নিতে সহায়তা করবে আর নতুন টিস্যু তৈরিতে এবং ক্ষয়রােধে সহায়তা করবে। পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক নতুন এবং দ্রুত চুল গজানাের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মটরশুটি, বাদাম, কলিজা, * মাংস, দুধে আপনার প্রয়ােজনীয় । জিংক আর আয়রন বিদ্যমান।
(৩) ভিটামিন সি : পেয়ারা, লেবু, কমলা, আনারস,কামরাঙা, কাঁচামরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজাননার জন্য সহায়ক।
(৪) কালােজিরা : কালােজিরা নতুন চুল গজানাের জন্য সহায়ক। মাথায় কালােজিরার তেল ব্যবহার করা আর খাবারে কালােজিরা ব্যবহার খুব ভালাে ফল দেয়।
কিছু সাধারণ যত্নঃ ১, নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা এবং আঁচড়ানাে। কিন্তু অতিরিক্ত আঁচড়ানাে চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। ২. পেঁয়াজ এর রস চুলের গোড়ায় ভালাে করে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাবে। ৩, মেহেদি পাতা কিছু দিন ঘন ঘন ব্যবহার করুন। পাতা বেটে লাগিয়ে
– শ্যাম্পু করে ফেলুন। ৪, শুকনা আমলকি পানিতে ভিজিয়ে – লাগাতে পারেন। ৫. খাটি কালাে জিরা তেল বা নির্যাস বেশি বেশি ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনে একজন হেয়ার ট্রান্সপ্যাল্নট সার্জনের সাথে কথাও বলেও শুরু করতে পারেন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক; চর্ম, যৌন ও ট্রান্সপ্যাল্নট সার্জারী বিভাগ, শহীদ সােহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। চেম্বার : ডা. জাহেদ’স হেয়ার অ্যান্ড স্কিনিক, সাবামুন টাওয়ার,(৬-তলা)পুলিশ বক্সে সাথেই, পান্থপথ,মোড়, ঢাকা। ০১৫৬৭-৮৪-৫৪-১৯- ০১৭৩০-৭১-৬০-৬০