বরিশাল বানারীপাড়া : বরিশালের বানারীপাড়ার সন্ধ্যাঁ নদীর তীর ঘেঁষে বানারীপাড়া – নেছারাবাদ মূল সড়কের পাশেই অলংকারকাঠী গ্রাম অবস্থিত।শীতের মৌসুমে ফুলের রঙ্গে রঙ্গিন হয়েছে গ্রামটি। যতদূর চোখ যায় ততদূরই ফুল আর ফুল। অলংকারকাঠীতে বানিজ্যিকভাবে নানা প্রজাতির ফুলের চাষ হয়। অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও এ ব্যবসায় ঝুঁকছে। প্রতিদিন বাড়ছে ফুলের কৃষি, বাড়ছে ফুলচাষী, গ্রামের সমস্তটাই ছড়িয়ে পড়ছে ফুলের আবাদ। অলংকারকাঠি গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অপরূপ সাজের নার্সারিগুলো।অলংকার কাঠীতে প্রায় ৩০ টির মতো ছোট বড় নার্সারি গড়ে উঠেছে। এসব নার্সারিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ফুল এবং ফল গাছের চারা পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারার কলম উৎপাদন করে আসছেন নার্সারি ব্যবসায়ীরা।অধিকাংশ নারী-পুরুষ জীবিকা নির্বাহ করে এখান থেকে পুরুষের প্রতিদিন পারিশ্রমিক ৫০০ – ৬০০ টাকা এবং নারীদের ৩০০ -৪০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। এছাড়া নার্সারিগুলোতে মাসব্যাপীও কাজ করেন অনেক কর্মচারী।অলংকারকাঠীতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুল ও প্রকৃতিপ্রেমীদের ভীড় দেখা যায়। ভালোবাসা দিবস এবং বসন্ত উৎসবকে ঘিরে আগাম ফুল সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।নার্সারিতে সারা বছরই বেচাকেনার ধুম পরে থাকলেওল শীত মৌসুমে শুধুই ফুলের চারা কলম এবং ফুল বেচা-কেনা চলে।
অলংকারকাঠী নার্সারিগুলোতে অপারাজিতা, অলকানন্দা, আশোক, এডেনিয়াম, কদম, করবী, কাঠগোলাপ, কৃষ্ণচূড়া, ক্যাক্ট্যস, গাঁদা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, টিউলিপ, চামেলি, নয়নতারা, জারুল, চেরি, ডালিয়া, বেলী, অকিড, ক্যামিলিয়া সহ নানান ফুল ও ফুলের চারা পাওয়া যায়। ফলের চারার মধ্যে- জাম্বুরা, পেয়ারা, লেবু, লিচু, আঙ্গুর, জলপাই, কমলা, নাশপাতি, স্ট্রবেরি, পিচ, পেঁপে, বরই, কামরাঙা, ডালিম সহ দেশি বিদেশি বিবিন্ন ফল গাছের চারা পাওয়া যায়। এখানে বিভিন্ন বীজ এর পাইকাররা আসেন, তাদের থেকে ফুল এবং ফল গাছের বীজ সংগ্রহ করেন নার্সারির মালিকরা এই বীজগুলো কিনে বপন করেন।
স্থানীয়রা জানান,প্রতিদিনই প্রচুর দর্শনার্থী অলংকার কাঠী বিভিন্ন নার্সারিতে বেড়াতে আসে। অনেক বড় একটি পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে।কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এটা একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হবে। অলংকারকাঠীর নার্সারির মালিকদের একটাই দাবি তারা যাতে স্বল্প সুদে ঋণ পায় সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া।তাহলে নার্সারি ব্যবসার প্রসারিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।