বানারীপাড়া প্রতিনিধিঃ শীত এলেই প্রত্যেক বাড়িতে জামাই দাওয়াত শুরু হয়ে যায়।শীতের মধ্যে জামাইদের চিতই পিঠা খাওয়ানোর রেওয়াজ যুগ- যুগ ধরে চলে আসছে। আর পিঠা যেন বাঙালির সাথে ওতোপ্রোতো ভাবেই জড়িয়ে রয়েছে।শীতের পিঠাপুলি গ্রাম বাংলার উৎসব আমেজের সময়। শীতের পিঠার গোড়াপত্তন শুরু হয় গ্রাম থেকেই একটা সময় শীতের পিঠার জন্য শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে আসতো আত্মীয়-স্বজনরা। সবাই মিলে উনুনের পাশে বসে সেই পিঠা খাওয়ার উৎসব রীতি এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে ।বানারীপাড়ার গ্রামীন এলাকার বাড়ির আঙিনায় মাটির চুলার ওপর মাটির হাঁড়িতে পিঠা বানানোর যে দৃশ্য, সেটা সত্যিই মনমুগ্ধকর। বানারীপাড়ায় শীতের হিমেল হাওয়ায় প্রায় সকল ধরনের পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের আবহাওয়া পড়লেই বিভিন্ন সংগঠনের পিঠা উৎসবের মাতামাতি পড়ে যায় কিন্তুু উৎসবে বাঙালি তার নিজস্ব সত্ত্বাকে হারিয়ে যায়নি। বাঙালির পিঠা এখন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে পৌঁছেছে। একেক পিঠা তৈরি হয় একেক ধরনের উপাদানে। চিতই পিঠা, ভাঁপা পিঠা, পাটি সাপটা, ফুল পিঠা, দুধ পিঠা, জামাই পিঠা, পিঠা, সাজ পিঠা, তাল পিঠা, পাটা পিঠা, মুঠা পিঠা, লবঙ্গ পিঠা, ছিট পিঠা, চষি পিঠা, ঝাল পিঠা, মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, জামদানি পিঠা, ক্ষীরকুলি, লবঙ্গ লতিকা, ঝুড়ি পিঠা, ফুলকুচি পিঠা ছাড়াও বাহারি নামের আরো অনেক পিঠা রয়েছে।
শীতের হিমেল হাওয়ায় ধোয়া উঠা ‘ভাঁপা’ পিঠার স্বাদ না নিলে বাঙালির যেন তৃপ্তি মেটে না। নিজেদের আদি ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে বরিশালের বানারীপাড়ার সর্বত্রই গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে চলছে পিঠা তৈরি ও খাওয়ার ধুম। বানারীপাড়ার বাস স্ট্যান্ড রিস্কা স্ট্যান্ড ও ফেরিঘাটে পিঠা বিক্রেতারা পিঠার ঝুড়ি নিয়ে বসে থাকেন তারা ভাঁপা পিঠার পাশাপাশি চিতই পিঠা, পোয়া পিঠাসহ নানা রকমের দোকান নিয়ে বসেছেন। সমবায়সমিতির মালিক মিঠুন রায় জানায় পিঠার প্রতি তার প্রবল টান রয়েছে কিন্তুু মায়ের বয়স বাড়ায় বাড়িতে সেভাবে পিঠা তৈরি করা হয় না তাই পিঠার দোকান থেকেই পিঠা কিনে বাড়িতে নিয়ে যাই। বছর দুয়েক আগেও যে পিঠা ৫টাকা ছিল এখন সেটা ১০ টাকা তবু্ও পিঠা খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে তাতেই তৃপ্তি। বরিশালে জামাই-মেয়ে কিংবা আত্মীয় স্বজন বেড়াতে এলে তাদের গোশত আর চিতই পিঠা পরিবেশনের ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই চিতই পিঠাই আবার সারারাত দুধ আর গুড়ের রসে ডুবিয়ে রেখে বানানো হয় দুধ চিতই বা রস পিঠা। সারারাত রসে ডুবে একেকটা পিঠা ফুলে রসে টসটসে হয়ে যায়। সকালবেলা এ পিঠার এক টুকরো মুখে ভরলেই পুরো মুখ মিষ্টি রসে ভরে যায়। এই পিঠার বেশ কদর রয়েছে বানারীপাড়ায়।